দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারা দেশের দুই হাজার ৭৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, জুতা ও ব্যাগ পাচ্ছে। চলতি মাসেই পাইলটিং আকারে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফেরার পর সময় দিলেই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)-এর আটটি কর্মসূচির আওতায় একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে দেশীয় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে এসব উপকরণ নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে ২ লাখ ৫০ হাজার সেট স্কুলড্রেস, ৬৯ হাজার ৭০০ জুতা এবং ১১ লাখ ২২ হাজার ২১৬টি স্কুলব্যাগ জমা হয়েছে।
ইতোমধ্যে এসব শিক্ষা উপকরণ জেলা পর্যায়ে পাঠানো শুরু হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বুধবারের মধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলায় পাঠানো হবে। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের এবং ২৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে এসব উপকরণ পাঠানো হবে। এরপর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা পাইলটিংয়ের জন্য নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোতে উপকরণ পৌঁছে দেবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে চারটি করে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব উপকরণ পাবে। যেহেতু এসব উপকরণ সরকার কিনে নেয়নি, তাই প্রথম ধাপে সব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে প্রতিটি উপজেলা থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে।
তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের উপকরণ পাবে না। একজন কর্মকর্তা জানান, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলড্রেস পাবে। আর ব্যাগ ও জুতা পাবে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ দেওয়া হবে।
স্কুলড্রেস হিসেবে মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের ফ্রক বা টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য হালকা নীল জামা ও গাঢ় নীল হাফপ্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ফিতাবিহীন সাদা জুতাও দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বইয়ের পাশাপাশি এসব শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত পিইডিপি-৫-এর আওতায় স্কুলড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা বিতরণের জন্য আলাদা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ব্যয় করবে ৩৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষাব্যয় কিছুটা কমানোর মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমে পাইলটিং আকারে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। তিনি সময় দিলেই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। কর্মসূচির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে মিড-ডে মিল ও স্কুলড্রেস বিতরণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কম্বাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ নামে একটি স্কিম হাতে নিয়েছে।
এ স্কিমের আওতায় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবারের পাশাপাশি বছরে দুই সেট স্কুলড্রেস এবং এক জোড়া জুতা-মোজা পাবে। স্কুলে এসে শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্রাম নিতে পারে, সে জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আলাদা দুটি কমনরুম তৈরি এবং স্বাস্থ্য উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
স্কিমটির আওতায় দেশের পিছিয়ে পড়া এক হাজার বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে এসব সুবিধা পাবে।
এমএম/